আবার ফিরে এলাম। অনেক মাস পেরিয়ে গেছে। হবে না-ই বা কেন, কাজের টেনসন, তার ওপর ইতিউতি ঝামেলা তো লেগেই আছে! যাক আবার এই সাইবার দুনিয়ায় ফিরে এসে ভালই লাগছে।
ভোট শেষ। এমনকি সদ্য শেষ হয়েছে আই পি এল-ও। এখন লোকের উন্মাদনা বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে। এবারের বিশ্বকাপ ব্রাজিলের মাটিতে। আয়োজনের পথে অনেক বাধা ছিল। স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ হতে না পারা থেকে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ, সবকিছু পেরিয়ে ব্রাজিল এখন ফুটবলের উত্সবে মাতোয়ারা। আমদের কলকাতাই বা বাদ যায় কেন? সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল - কথাটাকে সার্থক করে তুলতে হবে তো।
আমাদের কলকাতায় প্রায়ই দেখি, যখনই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হয়, কিছু লোক দুটি দলের হয়ে গলা ফাটায় - এক ব্রাজিল, অপরটি আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে - কেন? কেন বিদেশী দলের হয়ে আমরা গলা ফাটাচ্ছি? আমাদের দেশে ফুটবলের কি কোনো ভালো খেলোয়াড় নেই? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে হয়ত অনেকেরই মনে হবে - কি দরকার ও সব পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে? কিন্তু দরকার আছে।
১৯১১ সালে শিবদাস ভাদুড়ীর নেতৃত্বে মোহনবাগান ইংরেজদের ফুটবলে হারিয়েছিল, তাও আবার খালি পায়ে। আর তারপর থেকেই আমরা, মানে বাঙালিরা ফুটবলের প্রেমে পড়ে গেলাম। এখন তো ভারতের প্রতিটি রাজ্যে একটি করে ফুটবল ক্লাব আছে। কিন্তু আফশোষ, সেই ক্লাবগুলিতে ভারতীয় খেলোয়াড়দের চেয়ে বিদেশী খেলোয়াড়দের সংখ্যা বেশি। এমনকি শিবদাস ভাদুড়ি ও গোষ্ঠ পালের ঐতিহ্য বহনকারী মোহনবাগানেও আজকাল বিদেশীদের ঢল।কি সব নাম - চিমা, ওদাফা, টোলগে, ব্যারেটো। আমাদের বাইচুং ভুটিয়াদের স্থানই নেই সেখানে! এর পেছনে আরও একটা কারণ আছে - বিশ্বজুড়ে ফুটবলের ব্যাবসায়ীকরণ। আমাদের জাতীয় ক্লাব ভুলে আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আরেসেনাল, রিয়েল মাদ্রিদ কে সাপোর্ট করছি। আই লিগ ভুলে আমরা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, স্প্যানিশ লীগ এ মেতেছি। বাইচুংদের ভুলে গিয়ে আমরা এখন মেসি-নেইমার-ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোদের নিয়ে মাতামাতি করছি। অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়।এর আগে আমরা মারাদোনা ও পেলের হয়ে গলা ফাটিয়েছি। কাজেই দোষটা আমাদের। বিদেশীদের নিয়ে বেশি ফাসিনেশান দেখাতে গিয়ে আমরা দেশের কথা চিন্তা করতেই ভুলে গেছি।সেইজন্যেই আজ অবধি ক্রিকেট ও হকি বিশ্বকাপে ভারত থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ-এ ভারতের টিকিটিও দেখা যায়নি।
তবু একটা আশার আলো ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পেয়েছি। ২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করার দায়িত্ব আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে তার তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের সমর্থন পাওয়া একটি নতুন লীগ যার নাম ইন্ডিয়ান সুপার লীগ, সেটাও খুব শিগগিরই শুরু হয়ে যাবে, যেটার থেকে আমরা অনেক নতুন প্রতিভার সন্ধান পাব যারা দেশের নাম উজ্জ্বল করবে এবং বিশ্বকাপে আমাদের দলকে একটা সম্মানযোগ্য স্থান দেওয়ার স্বপ্ন সার্থক করে দেখাবে। আন্ডার ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করাটা নো ডাউট আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। কিন্তু বর্তমান সরকারেরও উচিত এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এবং অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত ভাবে। কারণ অতীতে দেখা গেছে যে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করতে গিয়ে একের পর এক দুর্নীতির জেরে বিশ্বের কাছে আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছিল। যদিও আমরা শেষমেষ কমনওয়েলথ গেমস ভালোভাবে আয়োজন করতে পেরেছিলাম, এবং তাতে আমদের দেশ ১০১টি পদক জিতেছিল, কিন্তু তবুও লাগামছাড়া দুর্নীতির পর্দার আড়ালে সেই গৌরব ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। আশা করছি শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন আন্ডার ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনটা যাতে দুর্নীতিমুক্ত হয়। এবং আমার বিশ্বাস এই টুর্নামেন্ট এ যদি ভারত কিছু করে দেখাতে পারে - তাহলে নিশ্চয়ই আমরা পরবর্তী বিশ্বকাপে আমাদের দেশের হয়ে গলা ফাটাব।
ভোট শেষ। এমনকি সদ্য শেষ হয়েছে আই পি এল-ও। এখন লোকের উন্মাদনা বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে। এবারের বিশ্বকাপ ব্রাজিলের মাটিতে। আয়োজনের পথে অনেক বাধা ছিল। স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ হতে না পারা থেকে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ, সবকিছু পেরিয়ে ব্রাজিল এখন ফুটবলের উত্সবে মাতোয়ারা। আমদের কলকাতাই বা বাদ যায় কেন? সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল - কথাটাকে সার্থক করে তুলতে হবে তো।
আমাদের কলকাতায় প্রায়ই দেখি, যখনই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হয়, কিছু লোক দুটি দলের হয়ে গলা ফাটায় - এক ব্রাজিল, অপরটি আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে - কেন? কেন বিদেশী দলের হয়ে আমরা গলা ফাটাচ্ছি? আমাদের দেশে ফুটবলের কি কোনো ভালো খেলোয়াড় নেই? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে হয়ত অনেকেরই মনে হবে - কি দরকার ও সব পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে? কিন্তু দরকার আছে।
১৯১১ সালে শিবদাস ভাদুড়ীর নেতৃত্বে মোহনবাগান ইংরেজদের ফুটবলে হারিয়েছিল, তাও আবার খালি পায়ে। আর তারপর থেকেই আমরা, মানে বাঙালিরা ফুটবলের প্রেমে পড়ে গেলাম। এখন তো ভারতের প্রতিটি রাজ্যে একটি করে ফুটবল ক্লাব আছে। কিন্তু আফশোষ, সেই ক্লাবগুলিতে ভারতীয় খেলোয়াড়দের চেয়ে বিদেশী খেলোয়াড়দের সংখ্যা বেশি। এমনকি শিবদাস ভাদুড়ি ও গোষ্ঠ পালের ঐতিহ্য বহনকারী মোহনবাগানেও আজকাল বিদেশীদের ঢল।কি সব নাম - চিমা, ওদাফা, টোলগে, ব্যারেটো। আমাদের বাইচুং ভুটিয়াদের স্থানই নেই সেখানে! এর পেছনে আরও একটা কারণ আছে - বিশ্বজুড়ে ফুটবলের ব্যাবসায়ীকরণ। আমাদের জাতীয় ক্লাব ভুলে আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আরেসেনাল, রিয়েল মাদ্রিদ কে সাপোর্ট করছি। আই লিগ ভুলে আমরা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, স্প্যানিশ লীগ এ মেতেছি। বাইচুংদের ভুলে গিয়ে আমরা এখন মেসি-নেইমার-ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোদের নিয়ে মাতামাতি করছি। অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়।এর আগে আমরা মারাদোনা ও পেলের হয়ে গলা ফাটিয়েছি। কাজেই দোষটা আমাদের। বিদেশীদের নিয়ে বেশি ফাসিনেশান দেখাতে গিয়ে আমরা দেশের কথা চিন্তা করতেই ভুলে গেছি।সেইজন্যেই আজ অবধি ক্রিকেট ও হকি বিশ্বকাপে ভারত থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ-এ ভারতের টিকিটিও দেখা যায়নি।
তবু একটা আশার আলো ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পেয়েছি। ২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করার দায়িত্ব আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে তার তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের সমর্থন পাওয়া একটি নতুন লীগ যার নাম ইন্ডিয়ান সুপার লীগ, সেটাও খুব শিগগিরই শুরু হয়ে যাবে, যেটার থেকে আমরা অনেক নতুন প্রতিভার সন্ধান পাব যারা দেশের নাম উজ্জ্বল করবে এবং বিশ্বকাপে আমাদের দলকে একটা সম্মানযোগ্য স্থান দেওয়ার স্বপ্ন সার্থক করে দেখাবে। আন্ডার ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করাটা নো ডাউট আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। কিন্তু বর্তমান সরকারেরও উচিত এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এবং অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত ভাবে। কারণ অতীতে দেখা গেছে যে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করতে গিয়ে একের পর এক দুর্নীতির জেরে বিশ্বের কাছে আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছিল। যদিও আমরা শেষমেষ কমনওয়েলথ গেমস ভালোভাবে আয়োজন করতে পেরেছিলাম, এবং তাতে আমদের দেশ ১০১টি পদক জিতেছিল, কিন্তু তবুও লাগামছাড়া দুর্নীতির পর্দার আড়ালে সেই গৌরব ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। আশা করছি শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন আন্ডার ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনটা যাতে দুর্নীতিমুক্ত হয়। এবং আমার বিশ্বাস এই টুর্নামেন্ট এ যদি ভারত কিছু করে দেখাতে পারে - তাহলে নিশ্চয়ই আমরা পরবর্তী বিশ্বকাপে আমাদের দেশের হয়ে গলা ফাটাব।





