Thursday, 19 June 2014

ফিরে এলাম বিরতির পর - ভারতের ফুটবল ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলতে।

আবার ফিরে এলাম। অনেক মাস পেরিয়ে গেছে। হবে না-ই বা কেন, কাজের টেনসন, তার ওপর ইতিউতি ঝামেলা তো লেগেই আছে! যাক আবার এই সাইবার দুনিয়ায় ফিরে এসে ভালই লাগছে।

ভোট শেষ। এমনকি সদ্য শেষ হয়েছে আই পি এল-ও। এখন লোকের উন্মাদনা বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে। এবারের বিশ্বকাপ ব্রাজিলের মাটিতে। আয়োজনের পথে অনেক বাধা ছিল। স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ হতে না পারা থেকে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ, সবকিছু পেরিয়ে ব্রাজিল এখন ফুটবলের উত্সবে মাতোয়ারা। আমদের কলকাতাই বা বাদ যায় কেন? সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল - কথাটাকে সার্থক করে তুলতে হবে তো।

আমাদের কলকাতায় প্রায়ই দেখি, যখনই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হয়, কিছু  লোক দুটি দলের হয়ে গলা ফাটায় - এক ব্রাজিল, অপরটি আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে - কেন? কেন বিদেশী দলের হয়ে আমরা গলা ফাটাচ্ছি? আমাদের দেশে ফুটবলের কি কোনো ভালো খেলোয়াড় নেই? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে হয়ত অনেকেরই মনে হবে - কি দরকার ও সব পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে? কিন্তু দরকার আছে।

১৯১১ সালে শিবদাস ভাদুড়ীর নেতৃত্বে মোহনবাগান ইংরেজদের ফুটবলে হারিয়েছিল, তাও আবার খালি পায়ে। আর তারপর থেকেই আমরা, মানে বাঙালিরা ফুটবলের প্রেমে পড়ে গেলাম। এখন তো ভারতের প্রতিটি রাজ্যে একটি করে ফুটবল ক্লাব আছে। কিন্তু আফশোষ, সেই ক্লাবগুলিতে ভারতীয় খেলোয়াড়দের চেয়ে বিদেশী খেলোয়াড়দের সংখ্যা বেশি। এমনকি শিবদাস ভাদুড়ি  ও গোষ্ঠ পালের ঐতিহ্য বহনকারী মোহনবাগানেও আজকাল বিদেশীদের ঢল।কি সব নাম - চিমা, ওদাফা, টোলগে, ব্যারেটো। আমাদের বাইচুং ভুটিয়াদের স্থানই নেই সেখানে! এর পেছনে আরও একটা কারণ আছে - বিশ্বজুড়ে ফুটবলের ব্যাবসায়ীকরণ। আমাদের জাতীয় ক্লাব ভুলে আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আরেসেনাল, রিয়েল মাদ্রিদ কে সাপোর্ট করছি। আই লিগ ভুলে আমরা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, স্প্যানিশ লীগ এ মেতেছি। বাইচুংদের ভুলে গিয়ে আমরা এখন মেসি-নেইমার-ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোদের নিয়ে মাতামাতি করছি। অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়।এর আগে আমরা মারাদোনা ও পেলের হয়ে গলা ফাটিয়েছি। কাজেই দোষটা আমাদের। বিদেশীদের নিয়ে বেশি ফাসিনেশান দেখাতে গিয়ে আমরা দেশের কথা চিন্তা করতেই ভুলে গেছি।সেইজন্যেই আজ অবধি ক্রিকেট ও হকি বিশ্বকাপে ভারত থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ-এ ভারতের টিকিটিও দেখা যায়নি।

 তবু একটা আশার আলো ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পেয়েছি। ২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করার দায়িত্ব আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে তার তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের সমর্থন পাওয়া একটি নতুন লীগ যার নাম ইন্ডিয়ান সুপার লীগ, সেটাও খুব শিগগিরই শুরু হয়ে যাবে, যেটার থেকে আমরা অনেক নতুন প্রতিভার সন্ধান পাব যারা দেশের নাম উজ্জ্বল করবে এবং বিশ্বকাপে আমাদের দলকে একটা সম্মানযোগ্য স্থান দেওয়ার স্বপ্ন সার্থক করে দেখাবে। আন্ডার ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করাটা নো ডাউট আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। কিন্তু বর্তমান সরকারেরও উচিত এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এবং অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত ভাবে। কারণ অতীতে দেখা গেছে যে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করতে গিয়ে একের পর এক দুর্নীতির জেরে বিশ্বের কাছে আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছিল। যদিও আমরা শেষমেষ কমনওয়েলথ গেমস ভালোভাবে আয়োজন করতে পেরেছিলাম, এবং তাতে আমদের দেশ ১০১টি পদক জিতেছিল, কিন্তু তবুও লাগামছাড়া দুর্নীতির পর্দার আড়ালে সেই গৌরব ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। আশা করছি শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন আন্ডার ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনটা যাতে দুর্নীতিমুক্ত হয়। এবং আমার বিশ্বাস এই টুর্নামেন্ট এ যদি ভারত কিছু করে দেখাতে পারে - তাহলে নিশ্চয়ই আমরা পরবর্তী বিশ্বকাপে আমাদের দেশের হয়ে গলা ফাটাব।

Saturday, 19 January 2013

অনেক হয়েছে , আর নয় !

ওপরের হেডিংটা পড়ে আঁতকে ওঠার দরকার নেই। আমি আমার ব্লগ বন্ধ করে দিচ্ছি না! একটি সমসাময়িক ঘটনা আমার এই নতুন পোস্ট লিখতে বাধ্য করেছে।

গত মাসে দিল্লিতে একটি কিশোরীকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকের দল ধর্ষণ করে তার প্রানটা কেড়ে নিয়েছিল। ঘটনাটা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে আজ প্রায় এক মাস কেটে গেল, তাকে ন্যায় দেওয়ার জন্য কি আমরা কিছু করেছি কি? আদৌ যদি করে থাকি সেটা কতটা ফলপ্রসু হয়েছে?

ঘেন্না লাগে সেইসব হিপোক্রিট উচ্ছৃঙ্খল লোকেদের প্রতি যারা একটা মহিলাকে সম্মান দিতে চায় না।ঘেন্না করি তাদের যারা ধর্ষণ জিনিসটাকে অত্যন্ত গর্বের বলে মনে করে। ঘেন্না করি সেইসব লোকেদের যারা সবকিছুর জন্য নারীদের সাজপোশাক ও তাদের আচার ব্যবহারকে এই সব ঘটনার জন্য দায়ী বলে মনে করে।

ইতিহাসে পড়েছিলাম শিবাজি নাকি  কোনো এক পাটিলের হাত ও পা কেটে দিয়েছিলেন কারণ সে একটা মেয়ের সম্মান নিয়ে টানাটানি করেছিল। আজকের এই পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হয় এইসব ধর্ষনকারী পুরুষদের সঙ্গেও এটাই করা উচিত। যদিও কিছু লোক আমার সাথে এ বিষয়ে একমত হবেন না।

আমার সকল মহিলাদের কাছে আবেদন - এইসব (কা)পুরুষদের উচিত শিক্ষা দিতে আপনারা নিজেকে আরও শক্ত করে তুলুন। কারণ আপনারাও এই সমাজেরই একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Tuesday, 15 May 2012

জুতোর বাক্সে কলকাতার কিছু পুরনো ছবি

সম্প্রতি Royal Commission on the Ancient and Historical Monuments of Scotland নামের একটি সংস্থা একটি জুতোর বাক্সের মধ্যে বেশ কিছু কাঁচের  প্লেট (মোট ১৭৮টি) পেয়েছে যার মধ্যে কলকাতার কিছু পুরনো (সম্ভবত স্বাধীনতা যুগের) ছবি পাওয়া গেছে ।

আমার ব্লগের পাঠকদের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী ছবিগুলি আপলোড করলাম কেমন লাগলো আমাকে অবশ্যই জানাবেন । সময়ের অভাবে ছবিগুলোতে ক্যাপশন দিতে পারলাম না।






Wednesday, 2 May 2012

নবরূপে নবসাজে

বাংলা নববর্ষে আজ বাংলা বিতর্কের পাতা নুতন চেহারায় আপনাদের সামনে. সকল শুভানুধ্যায়ীদের আমার তরফ থেকে জানাই শুভ নববর্ষ ১৪১৯ এর প্রীতি ও শুভেচ্ছা .

*********** শুভ নববর্ষ ১৪১৯ ***********

Thursday, 9 February 2012

বিশেষ ঘোষণা : বাংলা কমিকসের পাতা


হাই ফ্রেণ্ডস!


তোমরা যারা বাংলা কমিকস পড়তে ভালবাসো(সে ছোট হও বা বড়) তাদের জন্য একটা সুখবর আছে ৷


আমি, মানে এই ব্লগের অ্যাডমিনিস্ট্রেটার, খুব শিগগিরই "বাংলা কমিকসের পাতা" টাইটেল দিয়ে একটা নতুন ব্লগ ওয়েবসাইট শুরু করতে চলেছি (সম্ভবত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই অথবা আগামি মার্চ মাসের গোড়ার দিক থেকেই এটা শুরু হয়ে যাবে)৷ 


এই নতুন ব্লগ ওয়েবসাইটটিতে বাংলার সমস্ত বিখ্যাত কমিকস শিল্পীদের আঁকা যতগুলো কমিকসের বই আমার কাছে আছে সেগুলোর থেকে প্রতিমাসে দুটো করে পাতার "স্ক্যানড ইমেজ" আমি আপলোড করব৷


কিন্তু....

******* সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি *******


ওয়েবসাইটটিতে আপলোড করা সমস্ত "স্ক্যানড ইমেজে" ওয়েবসাইটের নাম দিয়ে একটি জল-ছবি বা "ওয়াটার মার্ক" লাগানো থাকবে৷ সুতরাং ডাউনলোড যদি করতে চাও, করতে পারো, কিন্তু ডাউনলোড করে যদি তা ছেপে বই বানিয়ে বিক্রির মতো অসৎ/অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করো, তাহলে কিন্তু কেস জন্ডিস্! কারণ, যতই তোমার কাছে ফোটোশপ থাকুক, হাজার চেষ্টা করেও ওই জল-ছবি বা "ওয়াটার মার্ক" তুমি ওড়াতে পারবে না! তাই তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ, ঐ অসৎ/অনৈতিক কাজটি খবরদার করতে যেও না!

তৈরি থেকো!!!! শিগ্গিরই আসছে!!!!

Thursday, 11 August 2011

"পশ্চিমবঙ্গ" কেন? শুধু "বঙ্গ" কেন নয় ?

"পশ্চিমবঙ্গ" নামটা হলো গিয়ে ইংরেজ শাসনকালে রাজ্যের অবস্থার বাহক এবং এই নামটা রাজ্য বিভাজনের সেই দগদগে স্মৃতিগুলো স্মরণ করিয়ে দেয় | রাজ্যের নামের পাশে লেজুড় হিসেবে জুড়ে দেওয়া এই "পশ্চিম" শব্দটা বাঙ্গালী মানসিকতার সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না | উল্টে, এটা আজকের প্রজন্মের উদীয়মান বাঙ্গালীর কাছে বিরক্তির এবং উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যে কিনা অনেক আগে থেকেই "এপার বাংলা ওপার বাংলা" -র মানসিকতা থেকে অনেক দুরে সরে এসেছে| 


আশ্চর্যভাবে, ভারতবর্ষের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের দেশের পূর্বদিকে অবস্থিত | সবচেয়ে বড় কথা "রয়েল ওয়েস্ট বেঙ্গল টাইগার" বা "বে অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল" বলে কিছুই নেই| এবং আরও উল্লেখযোগ্য যে এই রাজ্যের বসবাসকারী লোকেদের পরিচয়টাই হচ্ছে বাঙালি হিসেবে, "পশ্চিম বাঙালি" হিসেবে নয়| তা হলে আমাদের বঙ্গে এখনো "পশ্চিম" কথাটা আঠার মত সেঁটে রয়েছে কেন? 


আমাদের জাতীয সঙ্গীত "জন গণ মন"য় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্পষ্টভাবেই এই রাজ্যকে "বঙ্গ" বলে উল্লেখ করেছেন| ১৯০৫ সালে ঘটে যাওয়া বঙ্গ ভঙ্গের প্রতিবাদে তিনি "আমার সোনার বাংলা" গানটি রচনা করেছিলেন যেটি পরে ১৯৭২ সালে বর্তমান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে পরিচয় পেয়েছিল| দুর্ভাগ্যের বিষয়, ভারতবর্ষ তথা  ভারতবর্ষে অবস্থিত বাংলা কবিগুরুর এই রচনার স্পিরিটকে মর্যাদা দিতে পারেনি|


রাজ্যের নাম বদল করার এটাই সঠিক সময়| আপনি কি একমত? আপনার মতামত নিচের "কমেন্টস" এ গিয়ে লিখুন|

Tuesday, 8 March 2011

নারী দিবসের কি কোনো প্রয়োজন / মাহাত্ম্য আছে?

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস | নারীদের জন্য একটা বিশেষ দিন | কিন্তু তবু বলতে হয়, আলাদা করে নারীদের জন্য একটা দিন তৈরি করার কোনো প্রয়োজন আছে কি?


নারীকে অর্ধেক আকাশ বলা হয়, কিন্তু বহুযুগ পেরিয়ে গেলেও আজকের  নারী সেই শোষিত, পীড়িত, এবং অত্যাচারিতই  থেকে গেছে, আজও ভারতবর্ষে নারীকে পর্দার আড়ালে রাখা হয় | আজও নারী কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে তাকে তার গর্ভেই হত্যা করে ফেলা হয় | আজও বহু নারীকে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়, তাও আবার আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে | তা হলে নারী দিবসের প্রয়োজন বা মাহাত্ম্য আর রইলো কই?

অথচ এই নারীকেই আমরা কখনো মা, কখনো বোন, কখনো জীবনসাথী রূপে পেয়েছি, কিন্তু তা সত্বেও আমাদের তাদের প্রতি আচরণ এরকম হবে কেন? যে নারীকে আমরা দেবীরূপে পুজো করি, আজ তাকেই লাঞ্ছিতা হতে হবে কেন (যেভাবে নিজের বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রান হারিয়েছিল রাজীব দাস)? আজকের নারী কি দুর্বল?! না! নারীদের একেবারেই দুর্বল মনে করলে চলবে না | তারা পুরুষদের তুলনায় যথেষ্ট বেশি বুদ্ধিমতী এবং ক্ষমতাশালী | আজকের নারীর স্থান কেবলমাত্র গৃহস্থালি সামলানো বা রান্ঘারের চার দেওয়ালের মধ্যে দিন কাটানোয় আর সীমিত নেই | আজ নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন জীবিকার মাধ্যমে তাদের একটা নিজস্ব পরিচয়, একটা নিজস্ব জগত তৈরি করতে পেরেছে | আজকের নারীকে তাই যদি সম্মান নিতান্তই জানাতে হয়, তাহলে প্রতিদিন সে আপনার জন্য যেভাবে জীবনযুদ্ধ লড়ে চলেছে, তার সেই ক্ষমতা, তার সেই স্পিরিট কে সম্মান দিন | "আন্তর্জাতিক নারী দিবস" নাম দিয়ে নারীদের সম্মান দেওয়ার নামে প্রহসন করার জন্য একটা আলাদা প্রতীকী দিন করার কোনো প্রয়োজন বা মাহাত্ম্য নেই!

কারণ - নারীদের  জন্য আলাদা প্রতীকী দিবসের কোনো দরকার নেই | নারীর প্রতিটি দিনই হয়ে উঠুক- "নারী দিবস" |