Tuesday, 8 March 2011

নারী দিবসের কি কোনো প্রয়োজন / মাহাত্ম্য আছে?

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস | নারীদের জন্য একটা বিশেষ দিন | কিন্তু তবু বলতে হয়, আলাদা করে নারীদের জন্য একটা দিন তৈরি করার কোনো প্রয়োজন আছে কি?


নারীকে অর্ধেক আকাশ বলা হয়, কিন্তু বহুযুগ পেরিয়ে গেলেও আজকের  নারী সেই শোষিত, পীড়িত, এবং অত্যাচারিতই  থেকে গেছে, আজও ভারতবর্ষে নারীকে পর্দার আড়ালে রাখা হয় | আজও নারী কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে তাকে তার গর্ভেই হত্যা করে ফেলা হয় | আজও বহু নারীকে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়, তাও আবার আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে | তা হলে নারী দিবসের প্রয়োজন বা মাহাত্ম্য আর রইলো কই?

অথচ এই নারীকেই আমরা কখনো মা, কখনো বোন, কখনো জীবনসাথী রূপে পেয়েছি, কিন্তু তা সত্বেও আমাদের তাদের প্রতি আচরণ এরকম হবে কেন? যে নারীকে আমরা দেবীরূপে পুজো করি, আজ তাকেই লাঞ্ছিতা হতে হবে কেন (যেভাবে নিজের বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রান হারিয়েছিল রাজীব দাস)? আজকের নারী কি দুর্বল?! না! নারীদের একেবারেই দুর্বল মনে করলে চলবে না | তারা পুরুষদের তুলনায় যথেষ্ট বেশি বুদ্ধিমতী এবং ক্ষমতাশালী | আজকের নারীর স্থান কেবলমাত্র গৃহস্থালি সামলানো বা রান্ঘারের চার দেওয়ালের মধ্যে দিন কাটানোয় আর সীমিত নেই | আজ নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন জীবিকার মাধ্যমে তাদের একটা নিজস্ব পরিচয়, একটা নিজস্ব জগত তৈরি করতে পেরেছে | আজকের নারীকে তাই যদি সম্মান নিতান্তই জানাতে হয়, তাহলে প্রতিদিন সে আপনার জন্য যেভাবে জীবনযুদ্ধ লড়ে চলেছে, তার সেই ক্ষমতা, তার সেই স্পিরিট কে সম্মান দিন | "আন্তর্জাতিক নারী দিবস" নাম দিয়ে নারীদের সম্মান দেওয়ার নামে প্রহসন করার জন্য একটা আলাদা প্রতীকী দিন করার কোনো প্রয়োজন বা মাহাত্ম্য নেই!

কারণ - নারীদের  জন্য আলাদা প্রতীকী দিবসের কোনো দরকার নেই | নারীর প্রতিটি দিনই হয়ে উঠুক- "নারী দিবস" |


Thursday, 3 March 2011

প্রবাসী বাঙালিরা কি আদৌ বাঙালি?

প্রবাসী বাঙালি - কথাটা শুনলেই আমার রাগ ধরে যায়! বাঙালি সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়া তো দূরে থাক, এই তথাকথিত "প্রবাসী বাঙালি" রা বাংলা ভাষা টুকুও ঠিকমতন বলতে পারে কিনা আমার সন্দেহ আছে | অন্যান্য ভাষার (মানে তাদের প্রবাসের জন্মস্থানের ভাষা) বেলায় তারা বেশ পটু, কিন্তু যেই বাংলা ভাষায় কথা বলার প্রসঙ্গ উঠে আসে, ব্যাস! অমনি ভাঙ্গা রেকর্ডের মত তাদের মুখের বুলি - " আমি ব্যাংলা ভাষা ভ্যালোভ্যাবে বলতো পারি না."- ন্যাকামো!
একটা কথা আগেই বলে রাখি, আমি কিন্তু বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালিদের কথাই কিন্তু শুধু আমার এই ব্লগে লিখছি না, পশ্চিম বঙ্গ থেকে যারা জীবিকার সন্ধানে দেশের (ভারতের) এ প্রান্ত ও প্রান্ত ঘুরে বেড়ান, তারাও আমার এই ব্লগের টপিকের আন্ডারে| তারা নিজের ভাষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে যেভাবে পরের ভাষাকে গ্রহন করছেন, তাতে তারা নিজের ক্ষতি নিজেই করছেন|

আমার একটাই বক্তব্য - নিজের মাতৃভাষা, নিজের সংস্কৃতি বিসর্জন দিয়ে অন্যের ভাষা গ্রহণ করবেন না | আমি কিন্তু এটা বলছি না যে প্রবাসে বসবাস করছেন বলে সেখানকার ভাষা একেবারেই শিখবেন না | শিখবেন, অবশ্যই শিখবেন | কিন্তু অন্যের ভাষাকেও যেমন সম্মান দেন, নিজের মাতৃভাষাকেও  ঠিক ততটাই সম্মান দিন, না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম আপনাদেরই দোষ দেবে, এবং তাতে আপনার অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে |

Tuesday, 1 March 2011

ইউনাইটেড সিক্স : ছয় ছুঁরির কান্ড



আর কতদিন এই ধরনের বস্তাপচা কাহিনিওয়ালা সিনেমা বানিয়ে নিজের সময়, প্রতিভা নষ্ট করবেন উঠতি পরিচালকরা? তাঁরা কি অন্যদের একটু দেখেও শিখবেন না?যাই হোক, সমালোচনা যখন করতে বসেছি তখন চাঁচাছোলা মন্তব্যগুলো না হয় শেষের জন্য তোলা রইল | কাহিনির দিকে আসা যাক -


কাহিনিটা এইরকম : ব্যাংককে ছটা দস্যি মেয়ের বাস, তাদের সমস্ত আশা ,স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে | এই দস্যি দামাল ছয় মেয়েদের লিডার জিয়া ঠিক করে ছজনে মিলে ব্যাঙ্ক ডাকাতি করবে | সেইমতো তারা ব্যাঙ্কের কাছে একটি বেকারী ভাড়া নিয়ে সেখানে সুড়ঙ্গ খুঁড়তে শুরু করে | কিন্তু বিধি বাম, সুড়ঙ্গ খুঁড়তে গিয়ে ছয় মেয়েদেরই পড়ি কি মরি অবস্থা |সবারই হয় দম আটকে যাচ্ছে, নয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়ছে | শেষে নিজের বন্ধুদের বেহাল অবস্থা দেখে এবং তাদের অনুরোধে জিয়া ব্যাঙ্ক ডাকাতির পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় |


পরদিন সকালে টিয়ার ফোনে জিয়ার ঘুম ভেঙে যায় |জানা যায় গতকাল রাতে তাদেরই খোঁড়া সুড়ঙ্গের সাহায্যে ব্যাঙ্ক থেকে কুড়ি মিলিয়ন ডলার লুট করে পালিয়েছে এবং পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এই সবকিছুর পেছনে এই ছটি মেয়েদের বাহিনী বা ইউনাইটেড সিক্স এর হাত রয়েছে |বাকিটুকু আর বললাম না, গল্পের গরু অলরেডি গাছে উঠে গেছে! এর বেশি ওপরে উঠলে মহাকাশে চলে যাবে!


উঠতি পরিচালক বিশাল আরিয়ান সিং কি করে এই বস্তাপচা কাহিনিটি লিখে সেটির চলচ্চিত্র রূপায়ন করলেন আমার ভাবতে অবাক লাগছে ! গোটা ছবিটাতে কোথাও কোনো পুরুষ অভিনেতা মূখ্য ভূমিকায় নেই ! পুরো ছবিটাতেই এই ছয় তনয়াদের দাপট |ছবিতে সব অভিনেত্রীই নতুন মুখ |কিন্তু দুর্ভাগ্য, কেউই ভাল অভিনয় করতে পারেননি |প্রিতমের সঙ্গীতের অবস্থাও তথৈবচ |




শেষে একটাই কথা বলতে হয়, এই ছবি যদি বাংলায় কোনোদিন রিমেক হয় (যদিও গল্পের চেহারা দেখে কেউ সেটা করতে চাইবে না), তাহলে এই ছবির নাম নিশ্চয়ই "ছয় ছুঁড়ির কান্ড" হবে !


অভিনয়ে :
শাইনা - পার্ব্বতী ওমানাকুট্টন
জিয়া - ডেইসি বপান্না
ম্যাডি - লুনা লাকার
টিয়া - মাহি
ক্যান্ডি - ঈষা বাটভে
টুটসি - পূজা শর্মা


প্রযোজক :
সি জি পটেল

কাহিনি ও পরিচালনা :
বিশাল আরিয়ান সিং